Insaaf
নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ
শব্বেদারী নামে এই কাজটা শিবিরের রেগুলার কাজের একটা অংশ। ওরা কোমলমতি শিশুদের জীবনে আনন্দ, উল্লাস আর নেশা, টিকটকের অশ্লীল রিল আর রাতভর ফোন টেপানো থেকে বঞ্চিত করে এই ধরণের প্রোগ্রামে নিয়ে আসে।
এরপর কুরআনের একটি অংশ তিলাওয়াত করে, তার অর্থ, তাফসির, এবং সময়োপযোগী ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করে।
ভাবা যায়? যে বয়সে এরা জীবনকে উপভোগ করতে শিক্ষা নিবে, যে বয়সে পাখির মত উড়বে, ফুলে ফুলে মধু খাওয়ার প্রস্তুতি নিবে সে বয়সে এরা বুড়া মানুষের মত ধর্মকর্ম করে!
এই প্রোগ্রামে আবার বিষয়ভিত্তিক হাদীসের আলোচনাও হয়, ১৪০০ বছর আগে একটা মানুষ কি বলেছে, কি করেছে সেগুলো আলাপ করে কোন লাভ আছে?
যে সময়ে তারা শিখবে কিভাবে চান্দাবাজী করতে হয়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানান রকম ধান্দা করতে শিখবে, সে সময়ে এরা হাদিস কোরআন নিয়ে আলাপ করে!
ভাবা যায়? এই কোমলমতি শিশুদেরকে এভাবে ব্রেইনওয়াশ করে যে তারা নিজের ইচ্ছায়, বাবা মায়ের সম্মতিতে এভাবে রাতের বেলায় মসজিদে কাটাতে আসে! আবার তাহাজ্জুদ পড়ে! ফজরের পরে বাসায় গিয়ে ঘুমায়!
কই? তাবলীগে আসলে তো তাদেরকে নিয়ে বিএনপি কোন প্রতিবাদ করে না! এইরকম তরুণ প্রজন্মই কি আমরা চেয়েছি?
ওই দিনের ঘটনা দেখে যা বুঝলাম ,শিবিরের উচিৎ এরকম আয়োজনের আগে বিএনপির নেতা, ওয়ার্ড কমিশনার, এলাকার ইউএনও, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা সহ সকল যায়গায় ইনফর্ম করে, অনুমতি নিয়ে তারপর এই ধরণের কাজ করা।
ইন্তেকালের প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর দাফন — কেন? ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় ৪০ ঘণ্টার ধারাবাহিক বিবরণ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন ১১ হিজরী, ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার, চাশতের সময় — হযরত আয়েশা রা. এর হুজরায়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।
আর তাঁকে দাফন করা হয় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে, বুধবারের শুরুতে। অর্থাৎ ইন্তেকালের প্রায় ৩৬ থেকে ৪০ ঘণ্টা পর।
এই বিলম্ব কোনো অবহেলা, অলসতা বা দুনিয়াবী ব্যস্ততার কারণে ছিল না। বরং এই ৪০ ঘণ্টা ছিল ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক, সবচেয়ে সংকটময় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
সেই ৪০ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল? — ধারাবাহিক ইতিহাস
১. সোমবার সকাল: মদীনায় শোকের কেয়ামত
রাসূল সা. এর ওফাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মদীনা অন্ধকার হয়ে গেল। সাহাবায়ে কেরাম বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। আনাস রা. বলেন:
"যেদিন রাসূল সা. মদীনায় এসেছিলেন সেদিন সবকিছু আলোকিত হয়ে গিয়েছিল, আর যেদিন তিনি ইন্তেকাল করলেন সেদিন সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল।"
[সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ৩৬১৮, হাসান সহীহ]
এই শোকে উমর রা. তরবারি হাতে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন — "যে বলবে মুহাম্মদ সা. মারা গেছেন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব! তিনি তো মূসা আ. এর মতো সাময়িকভাবে তাঁর রবের কাছে গেছেন।"
[সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩৬৬৭, ৩৬৬৮]
২. সোমবার দুপুর: আবু বকর রা. এর ঐতিহাসিক ভাষণ — ঈমান রক্ষার ভাষণ
আবু বকর রা. তখন মদীনার উপকণ্ঠে 'সুনহ' নামক স্থানে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি ঘোড়া ছুটিয়ে এলেন, সরাসরি হুজরায় প্রবেশ করে রাসূল সা. এর কপালে চুম্বন করে বললেন:
"বি-আবি আন্তা ওয়া উম্মি, ত্বিবতা হাইয়্যান ওয়া মাইয়্যিতান" — আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান, আপনি জীবনে-মরণে কতই না পবিত্র!
[সহীহ বুখারী: ১২৪১]
এরপর তিনি মসজিদে নববীতে এসে সেই অমর ভাষণ দিলেন, যা উম্মাহকে শিরক থেকে বাঁচিয়ে দিল:
"আলা মান কানা মিনকুম ইয়া'বুদু মুহাম্মাদান ফা-ইন্না মুহাম্মাদান কাদ মা-ত, ওয়া মান কানা মিনকুম ইয়া'বুদুল্লাহা ফা-ইন্নাল্লাহা হাইয়্যুন লা ইয়ামূত।"
এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন কুরআনের আয়াত:
"ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূল, কাদ খালাত মিন কাবলিহির রুসুল। আফা-ইম মাতা আও কুতিলানক্বালাবতুম আলা আ'কাবিকুম" [সূরা আলে ইমরান: ১৪৪]
আবু বকর রা. এর এই তিলাওয়াত শুনে সাহাবীরা যেন প্রথমবার এই আয়াত শুনলেন। উমর রা. বলেন, এই আয়াত শোনার পর আমার পা আমাকে আর ধরে রাখতে পারছিল না, আমি মাটিতে পড়ে গেলাম।
[সহীহ বুখারী: ১২৪২]
৩. সোমবার বিকাল: সাকিফা বনু সায়িদা — উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষার সিদ্ধান্ত
রাসূল সা. এর পবিত্র দেহ তখনও হুজরায় রাখা। এদিকে খবর এলো, আনসার সাহাবীরা 'সাকিফা বনু সায়িদা' নামক ছাউনিতে একত্রিত হয়েছেন উম্মাহর পরবর্তী নেতা নির্বাচনের জন্য।
এটি ছিল ইসলামের প্রথম ও সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট। যদি ঐ মুহূর্তে নেতৃত্বের ফয়সালা না হতো, তাহলে মদীনায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেত, নব্য মুসলিম গোত্রগুলো মুরতাদ হয়ে যেত, আর ইসলাম মদীনাতেই শেষ হয়ে যেত।
তাই আবু বকর, উমর ও আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রা. তৎক্ষণাৎ সেখানে গেলেন। দীর্ঘ আলোচনা, যুক্তি-তর্কের পর সেখানেই আবু বকর রা. কে উম্মাহর প্রথম খলিফা হিসেবে বাইয়াত করা হয়।
[সহীহ বুখারী: ৬৮৩০, তারিখে তাবারী, সীরাতে ইবনে হিশাম: ২/৬৫৬]
ইমাম ইবনে কাসীর রহ. বলেন, খিলাফত নির্ধারণের এই কাজটি দাফনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি দ্বীনের হেফাজতের সাথে সম্পর্কিত ছিল।
৪. মঙ্গলবার সারাদিন: গোসল, কাফন ও অভূতপূর্ব জানাযা
ক. গোসল: রাসূল সা. এর গোসলের দায়িত্ব পালন করেন তাঁর আহলে বাইত — আলী ইবনে আবী তালিব, আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, ফযল ইবনে আব্বাস, কুসাম ইবনে আব্বাস, উসামা ইবনে যায়েদ ও শুকরান রা.। আল্লাহর নির্দেশে তাঁর পরনের জামা খোলা হয়নি, জামার উপর দিয়েই গোসল দেওয়া হয়।
আয়েশা রা. বলেন, "যখন তারা রাসূল সা. কে গোসল দিতে চাইলেন, তখন আওয়াজ এলো — তাঁর জামা খুলো না, জামার উপর দিয়েই গোসল দাও।" [সুনানে আবু দাউদ: ৩১৪১, হাসান]
খ. কাফন: তিনটি সাদা ইয়েমেনী 'সাহুলিয়া' কাপড়ে তাঁকে কাফন দেওয়া হয়, যার মধ্যে কোনো জামা বা পাগড়ি ছিল না। [সহীহ বুখারী: ১২৬৪, সহীহ মুসলিম: ৯৪১]
গ. দাফনের স্থান নির্ধারণ: কোথায় দাফন হবে তা নিয়ে মতভেদ হলে আবু বকর রা. সমাধান দেন। তিনি বলেন, আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি:
"মা কাবাযাল্লাহু নাবিয়্যান ইল্লা ফিল মাওদ্বিয়িল্লাযি ইউহিব্বু আইয়্যুদফানা ফীহি" — আল্লাহ কোনো নবীর জান কবজ করেন না, إلا সেখানে যেখানে তিনি দাফন হতে পছন্দ করেন। [সুনানে তিরমিযী: ১০১৮, সহীহ]
তাই সিদ্ধান্ত হয়, আয়েশা রা. এর হুজরাতেই, যে বিছানায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন, সেখানেই কবর খোঁড়া হবে।
ঘ. জানাযা — ইমাম ছাড়া জানাযা: এটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব জানাযা। রাসূল সা. সকলের ইমাম, তাই তাঁর জানাযায় কেউ ইমামতি করেননি। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ১০ জন ১০ জন করে সাহাবীরা হুজরায় প্রবেশ করে নিজে নিজে সালাত পড়ে বেরিয়ে যেতেন। প্রথমে পুরুষ, তারপর নারী, তারপর শিশুরা। এই প্রক্রিয়া পুরো মঙ্গলবার জুড়ে চলতে থাকে।
[সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬২৮, মুসনাদে আহমাদ: ৪/৮১, সীরাতে ইবনে হিশাম]
৫. মঙ্গলবার রাত / বুধবারের শুরু: দাফন
অবশেষে যখন সকলের জানাযা শেষ হলো, গভীর রাতে, বুধবার শুরু হওয়ার প্রাক্কালে আলী রা., আব্বাস রা. এবং তাঁর দুই ছেলে ফযল ও কুসাম রা. রাসূল সা. কে কবরে নামান।
[সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬২৯, তারিখে তাবারী]
তাহলে এই বিলম্বের হিকমত কী ছিল?
১. খিলাফত প্রতিষ্ঠা: উম্মাহকে বিভক্তি ও ফিতনা থেকে রক্ষা করা।
২. নিশ্চিতকরণ: দূর-দূরান্ত থেকে আগত সাহাবীরা যেন শেষবারের মতো দেখে নিশ্চিত হতে পারেন যে, তিনি সত্যিই ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁর দেহ মোবারক অক্ষত ও সুরক্ষিত আছে। কারণ নবীদের দেহ মাটি খায় না। [সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭, সহীহ]
৩. জানাযার সুযোগ: লক্ষাধিক সাহাবী যেন দলে দলে এসে জানাযা পড়ার সুযোগ পান।
সুতরাং, এই ৪০ ঘণ্টা ছিল না কোনো অবহেলা, বরং ছিল দ্বীনের হেফাজত, উম্মাহর ঐক্য এবং রাসূল সা. এর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের ৪০ ঘণ্টা।
সংগৃহীত
শরীফ ওসমান হাদীর লাশ
'মিলাদ' না 'সিরাত' এসব শাব্দিক বিতর্ক রেখে রাসুলুল্লাহ সা.-এর স্মরণে বেশি বেশি আলোচনাসভার আয়োজন করুন। শিরোনাম মুখ্য নয়; কিন্তু তাঁর নূ্রের দ্বারা সব আঁধার বিতাড়িত করার কোনো বিকল্প নেই।
মুফাসসিরে কুরআন মাও. দেলোয়ার হোসেন সাঈদি রাহ.-এর বিদায়ের তিন বছর পূর্ণ হলো। তিনি ছিলেন তিনিই। বক্তা তো অনেকই আছে; কিন্তু তাঁর প্রতিটা আলোচনা থেকেই তৈরি হতো ইকামাতে দ্বীনের কর্মী।
আহ !
আল্লামা সাঈদী (রাহেঃ) ছবিতে যারা অ'প'মান করেছে তাদের হাত ধ্বংস হয়ে যাক তাদের উপর লানত।
যেমন ধ্বংস হয়েছিলো আবু লাহাব!
04/08/2026
আজ ৫ই আগস্ট। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস। খুনি হাসিনার পালানোর দিন। গুম-খুনের রাজত্ব থেকে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির দিন। আজকের দিনে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি রক্তে লেখা জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিরন্তর সংগ্রামে
এই বাংলাদেশে আর কখনো গুম-খুনের রাজনীতি আমরা ফিরিয়ে আনতে দিব না ইনশাআল্লাহ, আর কোনো স্বৈরাচারের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হবে না এই দেশে ইনশাআল্লাহ।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
#রক্তে_লেখা_জুলাই
Students' League, Youth League and BNP terrorists slogans, 'Shibir dhor, jaba'ai
Category
Website
Address
8320
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Insaaf posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.