yoursever.Nusrat
'সবে সত্তা সুখীতা ভবন্ত'
10/01/2026
একটা বাড়ি বানানোর সফলতা!
২বছর বয়স থেকে শিশুদের ব্লক গেমসের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা যেতে পারে।
ব্লক গেম শিশুর বুদ্ধিমত্তা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সময়ে শিশুকে নিজের মতো খেলতে দেওয়া উচিত, সাহায্য না চাইলে যেচে সাহায্য করা অনুচিত। পিতা-মাতা বা অভিভাবক পাশে বসে নিজেরাও নানান আকৃতি তৈরি করতে পারেন, এতে শিশু দ্বিগুণ উৎসাহী হয়।
#শিশুর_স্বাধীনতা #খেলতেখেলতেশেখা
সে ইদানীং গান গাইতে শিখেছে। দিন দিন তার উচ্চারণজনিত সমস্যা কমছে। এজন্য অনেক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হচ্ছে আমাকে। স্পিচ ডিলে একটা কনসার্ন কিন্তু সঠিক পদক্ষেপে তা সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।
#তনু_ও_মা
17/09/2025
আমি যখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি, তখন এক সন্ধ্যায় বাবা-মা আমাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে কোনো একটা কাজে বাইরে যান। এর মধ্যেই আমার ঘুম ভাঙ্গে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে যখন বিদ্যুৎ চলে যায়। দরজা বাহির থেকে ছিটকিনি আঁটা ছিলো। আমি দেখলাম পাশের বাসার আন্টি সম্ভবত রান্নাঘরে এসেছেন (আমাদের দুই পরিবারের একটা রান্নাঘর ছিলো), আমি তাকে অনুরোধ করলাম যেনো দরজাটা খুলে দেন। কারণ আমার কেবলই মনে হচ্ছিলো পাশের ঘর থেকে কেউ এসে আমাকে চেপে ধরবে, যেহেতু আমি শৈশবেই বারংবার মলেস্টেশনের শিকার হতাম। তিনি দরজা খুলে দেন এবং স্বভাবতই বলে বসেন 'আমার বাবা-মা একা রেখে গেলো কেনো'! আমি উত্তর দেওয়ার আগেই তারা এসে হাজির হন। কিন্তু আমি কাউকে দিয়ে ছিটকিনি খুলিয়েছি এবং এইটুকু মেয়েকে এভাবে একা রেখে চলে যাওয়ার জন্য তারা একটা ছোটোখাটো অপমানের শিকার হবেন তা তারা মানতে পারেন নি। তারা ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে যান। কিছুক্ষণ বাদেই মা মাত্রই গরম করে আনা তরকারির পাতিল দ্বারা আমার হাতে ছ্যাঁকা দিয়ে বসেন, যদিও তিনি ডান গালে দিতে পারলে সম্ভবত আরেকটু শান্ত হতেন। তার দাবী ছিলো তারা বিদ্যুৎ চলে যেতেই পুরো পথ প্রায় দৌড়ে অতিক্রম করেন, আমি কেনো তাদের এই আবেগের মূল্য দিতে পারলাম না এবং এতো ব্যস্ত হলাম কেনো!? বাবাও বাঁধা দেন নি। এই প্রতিটা দৃশ্য নাটকের মতো এখনো আমার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে। অথচ মা কিংবা বাবা কোনোদিনই জানতে চান নি বা পারেন নি তাদেরকে আমার কখন প্রয়োজন ছিলো। আমিও কোনোদিনই কিছুই চাই নি। এরকম আরো অসংখ্য ঘটনা আছে। আমি ক্ষমা করেছি কারণ তাদের উভয়েরই জীবনটা বড়ো কঠিন ছিলো, তাদের কৈশোরও বেশ ডিপ্রেসিং ছিলো। অথচ তাদের এসবের কিছুই মনে নেই এবং অনুতাপ কিংবা অনুশোচনা নেই।
আমি যেদিন প্রথম আমার সন্তানের নড়াচড়া টের পেলাম, সেদিন থেকে আমি এতো বেশি সচেতন ছিলাম যা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাইরের মানুষ দেখেছে একটা শক্ত, বোল্ড গর্ভবতী মাকে কিন্তু আমি নিকেকে দেখেছি প্রতি সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত বাচ্চার নড়াচড়া গুনতে থাকা ভীত এক মাকে! বাচ্চা দুই ঘন্টা না নড়লে আমি ভরপেট খেয়ে বাম কাতে শুয়ে লম্বা শ্বাস নিতে নিতে নামতা গুনে গিয়েছি ধৈর্য ধরে রাখার জন্য একটানা দুই ঘন্টা! এমনকি প্রসবের পাঁচ দিন আগে সকাল ৭টায় একা গ্রাম থেকে শহরে এসে টেস্ট করিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছি। বসা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছিলো বলে হেঁটেছি, দাঁড়িয়ে থেকেছি পিঠে বিশাল ওজনের ম্যাটারনিটি ব্যাগ নিয়ে (কারণ আমি ভেবেছিলাম আমাকে আজই ভর্তি হতে হবে)। এরপর বাচ্চা ভালো আছে নিশ্চিত হয়ে বাচ্চার জন্য যাবতীয় কেনাকাটা করে আবার একা বাড়ি ফিরেছি। সাথে কাউকে আনি নি কারণ আমি চাই না আমার সন্তানের উপর কারোর ন্যুনতম ঋণ থাকুক। আমার স্বামী গর্ভাবস্থার পুরোটা সময়ে আমাকে শতভাগ সহযোগিতা করেছেন কিন্তু সেদিন ইদের আগের ছুটির পূর্বের দিন থাকার কারণে তার আমার কাছে আসতে বেলা তিনটা বেজে যায়।
আমার শাশুড়ি কিছুদিন আমার কাছে থেকে গিয়েছেন তখন বলেছিলেন 'তুমি তো একাই থাকবা। তোমার কষ্ট হবে। ও ঘুমালে টুকটাক কাজ করে নিও কিন্তু কাঁদলেই সব ফেলে কোলে নিও।' আর আমি এই ব্যাপারে তাকে সায় দিয়েছি। কারণ জীবনের চরম দুর্বিষহ সময়গুলোতে আমার মাকে পাই নি। সুতরাং আমি জানি সন্তানের প্রয়োজনে পাশে না থাকলে এক জীবনে তার হাহাকার কি করুণ হয়। একটা ছোট্ট প্রান যে কাঁদে এবং তাকে দ্রুত কোলে না নিলে সে স্ট্রেসড ফিল করে, তাকে আমি কাঁদতে দেওয়ার মতো মা হতে পারবো না। এই যে ওর বাবার সাথে ও এতো হাসে, এতো কথা বলে যা আমার সাথেও করে না কিন্তু যে কাঁদলে আমার 'মাম্মাম, আমি আছি তো' বাক্য ব্যয়ে শান্ত হয়, তার জন্য আমি সম্ভবত সবচেয়ে নিরাপদ এবং জরুরি। অথচ এই কান্না প্রসঙ্গে আমার মায়ের বক্তব্য ছিলো, 'কাঁদলে কাঁদবে। কাজ করবি। একটু কাঁদলে কিছু হয় না।' আমার অবাক লাগে নি অবশ্য!
আমার সন্তান কাঁদতে পারে কিন্তু কোনোদিন যদি আমি জানতে পারি যে ও কেঁদেছে অথচ আমি জানিনা কিংবা আমি সাড়া দেই নি কিংবা আমাকে বলতে চায় নি, সেদিন মা হিসেবে নিজেকে ব্যর্থ বলেই মনে হবে। আমি কোলে নিলেই যে মেয়েটা শান্ত হয়ে যায়, পাশে না পেলেই যে চোখ গোল গোল করে খুঁজতে থাকে, তার টীকার ব্যথা থেকে শুরু করে প্রেম ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি পর্যন্ত আমি ওর কান্নার সঙ্গী হতে চাই। আমার কোল ওর জন্য আজীবন নিরাপদ থাকুক। আমি আসলে বেঁচে থাকতে চাই। প্রকৃতি আমাকে বাঁচিয়ে রাখুক, কেবল ওর জন্য হলেও বাঁচিয়ে রাখুক।
15/09/2025
আমাদের মেয়েরা যে সচেতন হচ্ছে, নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা তৈরি করতে পেরেছে এটা ভীষণ আনন্দের। কমেন্ট বক্স টা দেখলেই বোঝা যায় যে মেয়েদের দাবিয়ে রাখা আর সম্ভব নয়।
15/09/2025
এদেশের নারীদের ক্ষেত্রে কর্মজীবন সবচেয়ে বেশি বাঁধাগ্রস্থ হয় কেবলমাত্র সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তার কারণে। বাচ্চা কে রাখবে, কিভাবে রাখবে, নিরাপত্তা থাকবে কিনা, পরিবেশ ভালো কিনা ইত্যাদি নানারকম হিসেব কষতে গিয়ে অধিকাংশ নারীর কর্মজীবন দুঃসহ হয়ে ওঠে। অনেকের ক্ষেত্রে চাকরিতে যোগদান কিংবা পুনরায় যোগদান আর করা হয়ে ওঠে না। আবার 'ডে কেয়ার' যা আছে তা ব্যয়বহুল এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেসবের সুযোগ নেই।
সরকার সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে ডে কেয়ার সেন্টার চালু করার আদেশ প্রদান করেছে। এখন এই আদেশ কতোখানি কার্যকর হয় যেটা সময়ের অপেক্ষা। ডে কেয়ার সেন্টার চালু করারি মূল কাজ নয়; কেয়ার গিভারের শিক্ষা, শিশু পালন করার জন্য যথেষ্ট ধৈর্য, উন্নত মানসকিকতা, দক্ষতা, উক্ত স্থানের পরিবেশ ও খাবার ইত্যাদি সবকিছুই এখানে লক্ষনীয় ব্যাপার। ডে কেয়ার এর চার্জ বা ফি কর্মীর আয়ের ওপর নির্ধারিত হবে এবং সেজন্য উচ্চ ও নিম্ন আয়ের কর্মীর সন্তানদের মধ্যকার কোনো ফারাক হবে না। এই চার্জের কিছু অংশ সরকার বা প্রতিষ্ঠান বহন করবে। প্রয়োজনে গর্ভকালীন অবস্থায় মা এজন্য আবেদন করে রাখবেন।
ডে কেয়ার সেন্টার চালু করার উদ্যগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু কেবল চালু করাই সমস্যার সমাধান নয়। মূল ইস্যু এর পরিচালনা ব্যবস্থা। ইদানীং বিভিন্ন ট্রেইনিং সেন্টারে সরকারি উদ্যোগে নারীদের তিন-চার ক্যাটাগরিতে কেয়ারগিভিং ট্র্বেইনিং দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে সরকার এ ব্যাপারে আগ্রহী। ডে কেয়ার সেন্টার চালু হলে কর্মজীবী মা যদি নিশ্চিত হতে পারেন তার সন্তানের নিরাপত্তার ব্যাপারে, তাহলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়ে যাবে বহুগুণ।
শিশুদের স্পিচ ডিলে কিভাবে সমাধান করবেন?
শিশুর স্পিচ ডিলে নানান কারণে হতে পারে। আমার কন্যা সব শব্দ বোঝে এবং তার কথা বোঝাতেও পারে নানান ইশারা ও অঙ্গভঙ্গিতে। কিন্তু সে কথা বলতে পারে না।
প্রথমেই বলি, কথা বলার জন্য ধ্বনি উচ্চারণ করতে পারা জরুরি। তনু'র ক্ষেত্রে আমি শুরুতেই এই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করি। যেহেতু সে নিতান্তই শিশু, সুতরাং তাকে ছক বেঁধে পড়তে বসানো সম্ভব নয়। তা করতে হলে তাকে জোর করতে হবে, ধমকাতে হবে। তাতে ফলাফল তো পজিটিভ হবেই না, বরং আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে এই সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। সুতরাং খেলার ছলে, নানান গল্পের ছলে আমি স্বরবর্ণ শেখানো শুরু করেছি।
এই ভিডিও টা শেয়ার করছি নিছক আনন্দ নিয়ে নয়, আমার প্রচেষ্টা অন্য মায়েদের জন্য সহায়ক হতে পারে এই ভাবনা থেকে। খেয়াল করলে বোঝা যাবে যে এখনো সে ঠোঁট, দাঁত, জিহবা ইত্যাদির সমন্বয় করতে সক্ষম নয়। ওর কথা না বলতে পারার পেছনের কারণ মূলত এটাই। সেজন্য এখনো 'ঋ' এবং 'ঐ' উচ্চারণ একদমই বেঠিক।
উচ্চারণ শেখানোর এই প্রসেস এ কিছু সহায়ক উপাদান ব্যাপারটাকে আরো সহজ ও কার্যকর করে তোলে। সেগুলো কি কি তা পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা করবো।
07/09/2025
তনু'র প্রথম আঁকার খাতা, প্রথম আঁকা।
প্যাস্টেল ড্রয়িং অন অফসেট পেপার। 🍂
আমার বাবার একজন বন্ধু ছিলেন। ছিলেন বললে ভুল হবে, এখনো আছেন। আমরা যখন ঢাকা থেকে বরিশালে বেড়াতে আসতাম তখন তিনি আমাদের বাসায় আসতেন, আমার দাদাবাড়িতে আর কি! এসে তিনি চা খেতেন, গল্প জুড়ে দিতেন। আমার বাবা-মায়ের বিয়েটাও তার ঘটকালিতেই ঘটে। বাসার সবাই তাকে খুব একটা খারাপ জানতেন না।
কিন্তু লোকটাকে আমার অসহ্য লাগতো। কারণ তিনি যতোবারই আসতেন ততোবারই স্বভাবসুলভ রসিকতা করতেন আমার সাথে, যে রসিকতাপূর্ণ আচরণ আমরা হরহামেশাই বাচ্চাদের সাথে ঘটতে দেখি; এমনকি জীবনে কখনো হয়তো নিজেরাও করেছি।
আমার বাবা তখন বিদেশে ছিলেন। তো বাবার সেই বন্ধু বলতেন, 'তুমি তো আসল মিম না৷ আসল মিম তো বিদেশে, বাচ্চুর কাছে।' আমি যতোবারই এর শিশুসুলভ প্রতিবাদ করাতাম, ততোবারই তিনি অট্টহাসিতে ফেটে পরতেন। ঘটনাটা তিনি প্রতিবারই ঘটাতেন এবং কখনোই বলতেন না যে এটা নিছক মশকরা।
আমার শিশুমনে অবচেতনে নয়, বরং একদম সচেতনভাবেই গেঁথে যায় যে সম্ভবত আমি বাবার কাছে অপ্রত্যাশিত কিংবা অপ্রয়োজনীয়। সেজন্যেই তিনি আমার কাছে নেই কিংবা শিশুকালে ঘটা নানান অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাথে অবচেতনে নয় বরং সচেতনভাবে আমি এর সংযোগ ঘটাতাম।
যদিও পরবর্তীতে বাবা ফিরে আসার পর এই ধারণার সচেতনভাবে সমাপ্তি ঘটে কিন্তু পরবর্তীতে ঘটা যেকোনো নেতিবাচক ঘটনাকেই আমি অবচেতনে একেই কারণ ভাবতাম হয়তো।
কৈশোরে পরবর্তী জীবনে আমি ভীষণ এগ্রেসিভ হয়ে উঠি এবং একসময় আমার খুন করার প্রবল ইচ্ছে জাগে। শৈশবে যারা এ্যাবইউসিভ ঘটনার শিকার শিকার হয় তারা পরবর্তীতে ভয়ংকর অপরাধী হয়ে উঠতে পারে অথবা তার যে সকল সম্ভাবনা তৈরি হতে পারতো তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তা যে-কোন ঘটনা হতে পারে। যেমন : বাবা-মায়ের কলহ, শিশুর ওপর শারিরীক, মানসিক বা অন্য যে-কোন অত্যাচার, শিশুকে প্রতিনিয়ত অন্য শিশুর সাথে তুলনা করা ইত্যাদি। আমিও যা যা করতে পারতাম সে সকল সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু তবুও আমি নিজেকে বারংবার বলে যাই, 'কাঁটার আঘাত ভুলে তুমি, এসো এই ফুলেরই কাছে।'
২০২৩, এইদিনে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
8200